অনলাইন ডেস্ক:
এই এপ্রিল মাসে গত ৭৬ বছরের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি সময় ধরে তাপপ্রবাহ ছিল বাংলাদেশে। অপরদিকে ৪৩ বছরের রেকর্ড ভেঙেছে কালবৈশাখী। এই দাবদাহে ৪৩ বছরের মধ্যে চলতি মাসে সবচেয়ে কম কালবৈশাখী হয়েছে। আগামী ২ দিন অর্থাৎ ২৮ ও ২৯ এপ্রিল স্বাধীন বাংলাদেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রার রেকর্ড ভাঙার আশঙ্কা করছে আবহাওয়াবিদ মুস্তফা কামাল পলাশ।
শনিবার তার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে লেখেন- স্বাধীন বাংলাদেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রার (৪৫ দশমিক ১ ডিগ্রি সেলসিয়াস) রেকর্ড ভাঙার আশঙ্কা খুবই বেশি আগামী ২৮ ও ২৯ এপ্রিলের যে কোনো দিন। সম্ভাব্য জেলা : চুয়াডাঙ্গা, মেহেরপুর, যশোর, পাবনা, রাজশাহী, ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ।
খুবই জরুরি প্রয়োজন ছাড়া সকাল ১১টার পর থেকে বিকেল ৪টার মধ্যে ঘরের বাইরে বের হওয়ার থেকে বিরত থাকুন। শিশু ও বয়স্ক ব্যক্তিদের এই সময়ে ঘরের বাইরে বের হয়ে খোলা আকাশের নিয়ে অবস্থান করা জীবনের জন্য খুবই ঝুঁকিপূর্ণ। যে কোনো সময় হিটস্ট্রোক হয়ে যেতে পারে।
শনিবার গণমাধ্যমকে আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ মো. উমর ফারুক বলেন, ১৯৪৮ সাল থেকে উপাত্ত বিশ্লেষণ করে দেখেছি। এবারের মতো তাপপ্রবাহ এর আগে হয়নি। এবার ৭৬ বছরের রেকর্ড ভেঙে গেল।’
এই তাপপ্রবাহের মাসে বজ্রঝড় বা কালবৈশাখীর সংখ্যা গেছে কমে। আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ মুহাম্মদ আবুল কালাম মল্লিক আবহাওয়া ও জলবায়ু নিয়ে গবেষণা করছেন। তিনি ১৯৮১ থেকে চলতি বছরের এপ্রিল মাসের উপাত্ত তুলে ধরেছেন তার গবেষণায়। এই ৪৩ বছরে এপ্রিল মাসে ৩৬৫টি বড় বজ্রঝড় হয়। সবচেয়ে বেশি ঝড় হয়েছিল ১৯৯৭ সালের এপ্রিল মাসে, ১৪টি। আর ১৯৯৯ ও ২০০৯ সালে সবচেয়ে কম ৪টি করে ঝড় হয় এপ্রিলে।
গত বছরের এপ্রিলে বজ্রঝড় হয়েছিল ৭টি। ২০২২-২১ সালে হয় যথাক্রমে ৯টি ও ৮টি। আর এ বছর মাত্র একটি।
দেশে সবচেয়ে বেশি বজ্রঝড় হয় মে মাসে। এর পর আছে জুন, সেপ্টেম্বর ও এপ্রিল মাস। কিন্তু এবার এই ২৬ এপ্রিল পর্যন্ত দেশে মাত্র একটি বজ্রঝড় বা কালবৈশাখি হয়েছে। তাও হয়েছে দেশের দক্ষিণাঞ্চলে। সেটিও অস্বাভাবিক।
Leave a Reply